Home / পরিবেশ ও বৈচিত্র্য / চলমান পাথর বা সেইলিং স্টোন

চলমান পাথর বা সেইলিং স্টোন

চলমান পাথর বা সেইলিং স্টোন

পাথর? চলে? অসম্ভব। জীবন্ত নাকি? পুরাই ধোঁকাবাজি। এমন কয়েকটি চিন্তা অবশ্যই আপনার মগজে খেলে গেছে পোস্টটাইটেল দেখার সাথে সাথে। কিন্তু আসলেই এমন পাথরের অস্তিত্ব আছে।

এ পর্যন্ত কেউই পাথরগুলোকে চলতে দেখেনি। তবে চলমান পাথর বলার কারণ আছে কি? হুম, অবশ্যই আছে। কারণ পাথরগুলোকে প্রথমদিন এ অবস্থানে দেখা যায় পরেরদিন তার থেকে অনেকদুরের অবস্থানে পাওয়া যায়। এমনকি পাথরের পিছনে যাওয়া রেখে পাতলা কাদার উপর ছাপও পাওয়া যায়।

View post on imgur.com

সবচেয়ে মজাদার দৃশ্যটা দেখা যায় ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের  রেস্ট্রেক প্ল্যায়াতে। যেন পাথরের রেসের প্রতিযোগিতা চলছে। এমনকি ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের এই এলাকার নামই হয়েছে রেসট্রেক শুধুই পাথরের এই বিরল রেসের কারণ।

View post on imgur.com

বিষয়টা প্রথম ১৯৪৮ সালে বিশেষজ্ঞদের চোখ পড়ে। তারা প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো বাতাসের কারণে পাথরগুলো কাদামাটি এবং বরফের কারণে পাথরগুলো এভাবে চলে। ১৯৫৫ সালে এম স্ট্যানলী বন্যার পর সৃষ্ট বরফকে এ আচরণকে দায়ী করেন। একেক আইস শিট মতবাদ বলে। কিন্তু চলার পথে বক্রতা থাকার কারণে এ তত্ত্ব বাতিল হয়ে যায়।

১৯৭৬ সালে রবার্ট শার্প এবং ডুই ক্যারে বছরের বিভিন্ন সময়ে তীব্র বাতাসের গতিবেগের কারণে পাথর  গুলো চলে বলে দাবি করেন। কিন্তু ১৯৯৫ সালে হ্যাম্পশায়ার কলেজের ভুত্বাত্তিক গণ শার্প ক্যারের মতামতকে বানচাল করে দিয়ে আইসশিট মতবাদকে গ্রহণ করেন।

কিন্তু উভয় মতামতই বাতিল হয়ে যায় যখন একই জায়গায় পাথর গুলো পাশাপাশি নিজেদেরকে অতিক্রম করতে থাকে। কারণ বাতাস বা আইসশিট যাই থাকুক পাথরগুলো অন্তত একদিকে চলবে ।  কিন্তু বাস্তব ঘটনা উভয় মতবাদকেই মিথ্যে প্রমাণিত করে।

আধুনিক স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে এদের স্থান পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেলেও কারণটি আজও রহস্যময়। উপরের ভিডিওটিতে গবেষক দল এই পাথর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এমনকি পাথরের চলন্ত ভিডিও দেখানো হয়েছে।

About lazyfahim

Check Also

পৃথিবীর বুকে অদ্ভুদ ও বিষ্ময়কর কিছু প্রাণী

পৃথিবীর অদ্ভুদ সব প্রাণী সমুহ। লাল ঠুটো বাঁদুড় মাছ এ কিউট লালঠুটো বাঁদুড়মাছটি সাধারণত গালাপাগোস …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *